
রাজু রবি দাস- কমলগঞ্জ
(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি _
উপজেলার শমসেরনগর ইউনিয়নের ডবলছড়া চা বাগান। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও উন্নয়নের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তাদের মাত্র ৩ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় এখন চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে ডবলছড়ার চা বাগান শ্রমিকের সাত শতাধিক পরিবারের।
শিক্ষার পথে দুর্গম বাধা
সরেজমিনে দেখা যায়, ডবলছড়া এলাকায় বিকল্প কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা চিৎলিয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়। বাগান থেকে স্কুলে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় উঁচু-নিচু টিলা আর খানাখন্দে ভরা প্রায় ৩ কিলোমিটার দুর্গম পথ। বর্ষাকালে এই পথ হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ।
ও শিলা নাইডু তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন:
”ডবলছড়া চা বাগানের চা শ্রমিক দের ছেলে মেয়েরা প্রত্যেকদিন স্কুলে যাওয়াটা একটা বড় সংগ্রাম। কোনো পাকা রাস্তা নেই। পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। হঠাৎ বৃষ্টি এলে মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই, ভিজে ভিজেই ক্লাসে যেতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে যেতে তাদের খুব ভয় লাগে।”
স্থবির জনজীবন, আতঙ্কে অভিভাবক
যাতায়াত ব্যবস্থা আদিম রয়ে যাওয়ায় এখানকার প্রায় সাতশ পরিবারের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। ডবলছড়া বাগান পঞ্চায়েতের অর্থ সম্পাদক সজল বৈদ্য বলেন, “আমাদের এলাকায় প্রায় তিনশত শিক্ষার্থী রয়েছে। এই ৩ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একদম অনুপযোগী। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তার কারণে ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায়। আমরা বছরের পর বছর একটি ভালো রাস্তার অপেক্ষায় আছি।”
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য ও আইনি জটিলতা
চিৎলিয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিন মিয়া বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে বিদ্যালয়ে আসে। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।”
রাস্তাটি কেন সংস্কার হচ্ছে না—এমন প্রশ্নে শমসেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি অফিসার মো. রকিবুল হক জানান, রাস্তাটি বন বিভাগের জায়গার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করবেন।
Leave a Reply